“পাকিস্তানে তিন নদীর জল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে ভারত ‘রক্ত ও জল কখনও এ সঙ্গে বইতে পারেনা।”

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

এযাবৎ ভারত পাকিস্তানকে বিনা শর্তে নিজের ভাগের জল দিয়ে এসেছে। এখন সেই জল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা করলো মোদী সরকার। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি সেই ইঙ্গিত দিয়েও ছিলেন এক বিবৃতিতে। তিনি বলে ছিলেন ‘ বিন্দু বিন্দু জলের হা-হুতাশ করবে পাকিস্তান’। এবার সেই হুমকিই প্রকৃত রুপ দিলেন কেন্দ্র সরকার তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
IMG-20190222-WA0018

ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশের এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে গড়কড়ি জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানের দিকে বয়ে যাওয়া তিনটি নদীর জল ঘুরিয়ে নিয়ে যমুনা নদীতে ফেলা হবে।’ এবং তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত জানিয়েছে, এই তিন নদী -রবি, শতদ্রু ও বিপাশার জল পাকিস্তাকে আর দেওয়া হবেনা। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলমের জল পাকিস্তানের পাওয়ার কথা, তবে বাকি তিনটি নদীর জল ভারত কোনও চুক্তি ছাড়াই এমনি দিত পাকিস্তানকে। তবে এবার সেটি আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
IMG-20190222-WA0016
সম্প্রতি টুইট করে নিতিন গড়কড়ি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমাদের ভাগের জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হলো। ও অন‍্যান‍্য নদীর জল ঘুরিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবে দেওয়া হবে।
IMG-20190222-WA0019

তিনি বলেন, ‘ রবি নদীর উপর শাহপুর-কান্দিতে ইতিমধ্যেই বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাশ্মীরের জল সরবরাহের পর উদ্বৃত্ত জল যথাক্রমে রবি-বিপাশা নদীর অববাহিকায় রাজ‍্য ও অঞ্চল গুলিতে সরবরাহ করা হবে।

উরি হামলার পরই নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন রক্ত ও জল কখনও একসঙ্গে বইতে পারেনা। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করলে সিন্ধু নদীর জল নিয়ে ভারত কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তারপর বেশ কয়েক দফায় সিন্ধু চুক্তি নিয়ে দুই দেশের বৈঠক চলছে। উল্লেখ্য পুলত্তয়ামা হামলার পর ভারতের সহ‍্যের বাঁধ ভেঙেছে। এবার সত্যি জল বন্ধ করে পাকিস্তানকে চরম শিক্ষা দিতে চলছে ভারত।