মাতৃভাষা দিবসে মিশে গেল দুই বাংলা

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, বাঙালির কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন। আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গণ্য। স্মৃতির পাতায় ২১শে’র এই দিনে ঝরে ছিল রক্ত, পুলিশের গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল একদল তরুণের। তাই এই দিনটিকে শহিদ দিবস-ও বলা হয়। বাংলা ভাষায় কবিগুরুর “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।” ” বাংলা আমার জীবনানন্দ বাংলা প্রাণের সুর, আমি একবার দেখি বারবার দেখি; দেখি বাংলার মুখ” – এই গান বাংলায় গাওয়া হয়। উপেন্দ্রকিশোর বাংলাতেই লিখে গেছেন গুপি-বাঘা’র কথা। সুকুমার-সত্যজিৎ লিখেছেন পাগলা দাশু-ফেলুদা’র কাণ্ডকলাপ। বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছে বহু সাহিত্য, গল্প, কবিতা, উপন্যাস। বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা। আমাদের ঘরের, আমাদের সুমিষ্ট ভাষা। তাই আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সন্মান জানাতে এ দিন দঃ ২৪ পরগণার ডায়মণ্ড হারবারের রবীন্দ্র ভবন প্রেক্ষাগৃহে পালিত হল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কবিতা, গান, আবৃত্তির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় ২১শে ফেব্রুয়ারির অমর শহিদ দের প্রতি। উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট গুণীজন। ডায়মণ্ড হারবার ছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয় সারা রাজ্য জুড়ে। এরকমই ছবি দেখা গেল আসানসোলে। আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে ২১ শে’র বীর শহীদ দের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানাগরিক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, এমআইসি মীর হাসিম সহ পুরনিগমের একাধিক কর্মী বৃন্দ। দু-পারের বাংলা-কে এক করতে এ দিন এক অভিনব উদ্যোগ নেয় বালুরঘাট। সীমান্তের ওপারে জিরো পয়েন্টে মুক্তি যোদ্ধা স্কোয়ারে এ দিন আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে এক হয়ে গেল দুই বাংলার সাংষ্কৃতিক মঞ্চ। এই অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। দুই বাংলা থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ। সব মিলিয়ে দুই বাংলার কাঁটাতার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ‘মাতৃদুগ্ধ’ বাংলার টানে।

সংবাদ সহায়তায়- দ্য পিডি নিউজ