২০০২ এ গুজরাটের দাঙ্গার প্রভাব কী পড়বে মোদীর ‘রাম’ রাজত্বে?

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

প্রায় দশক দেড়েক পর নতুন করে গুজরাট দাঙ্গা মামলায় বিপাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দাঙ্গা মামলায় মোদীকে ছেড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। এবং সেই মামলা গ্রহন করলো সর্বোচ্চ আদালত। আগামী সোমবার সেই মামলার প্রথম শুনানি। ২০০২ সালে দাঙ্গা চলাকালীনই নৃশংস ভাবে হত‍্যা করা হয় প্রাক্তন সাংসদ এহসান জাফরিকে। আহমেদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটির মর্মান্তিক গনহত্যায় মৃত ৬৯ জনের তালিকায় ছিলেন এহসানও। এবং এর পর থেকেই মোদী তথা সমগ্র গুজরাটের বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে লাগাতার আইনি লড়াই একাই চালিয়ে যাচ্ছেন তার স্ত্রী জাকিয়া জাফরি।

IMG-20181113-WA0021

বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ২০০২ সালের ওই দাঙ্গার মূল খলনায়ক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এবং তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদী দাঙ্গা রুখতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এবং তৎকালীন সময়ে এ নিয়ে বিস্তর তদন্তও হয়। দীর্ঘ ১৫বছর পর ২০১৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট নির্বাচিত বিশেষ তদন্তকারী দল( স্পেশাল ইনভস্টিগেশন টিম) মোদী সহ গুজরাটের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিপক্ষে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করে ক্লিনচিট দেন। সেই সময় অবশ্য মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন। স্বভাবতই বিরোধীরা আবারও তদন্ত করার আবেদন করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে গুজরাটের হাইকোর্টের মামলা দায়ের করেন জাকিয়া জাফরি। কিন্তু গুজরাট হাইকোর্ট সেই পিটিশন খারিজ করেদেন।

এবার গুজরাট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে আমল না দিয়ে শীর্ষ আদালতের দারস্থ হন জাকিয়া। সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার জানিয়েছেন আগামী সোমবার মামলার প্রথম শুনানি হবে। বিচারপতি খানউইলকর জানিয়েছেন, মুখবন্ধ খামে পেশ করা সিটের রিপোর্ট আরও একবার তদন্তের প্রয়োজন আছে, তাই খানউইলকর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ মামলা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়েছেন সোমবার সেই মামলার শুনানি হবে‌। উল্লেখ্য ২০০২ সালের গুজরাটের দাঙ্গার সরকারি হিসেবে ১হাজার ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে ৭৯০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের, ২৩০ জন ছিলেন হিন্দু। যদিও বেসরকারি হিসেবে মৃত্যুর হিসেব ছিলো ২ হাজারের ও বেশি। প্রায় আড়াই হাজার জন গুরুতর আহত হন। এখনো নিখোঁজ প্রায় ২২৩জন। এছাড়া প্রচুর মহিলাদের উপর অত‍্যাচার এবং ধর্ষণের অভিযোগ ও আছে। এ হেন হিংসার জন‍্য এখনো নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করেন এক গোষ্ঠীর মানুষ।