সিবিএসসির প্রশ্ন ফাঁস কি ভোটে প্রভাব ফেলবে?

নন্দিনী দে,কলকাতা:- এখনও পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী তার বিচক্ষণতার সাথে যা যা চাল চেলেছেন তা কিন্তু বিজেপিকে ভোটের দিক থেকে সফলতা এনে দিয়েছে। হ্যা, উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে সপা-বিএসপি জোটের কাছে বিজেপি মুখ থুবড়ে পরলেও রাজ্যসভার ভোটে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। সমস্ত দিকটা বিচার করলে আপাতত রমরমা বাজার মোদীরই। কিন্তু এই বার যে ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচন। মোদীর টিকে থাকার লড়াই। তার জন্য অবশ্য পদ্মশিবির কোমড় বেঁধে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নরেন্দ্র মোদী যুবসমাজকে প্রভাবিত করতে নানান উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। সম্প্রতি তিনি আইএসসি, আইসিএসসি, সিবিএসসি এই সকল পরীক্ষার্থীদের চাপ মুক্ত করতে লিখে ফেলেন একটি বই যার নাম- এগজ্যাম ওয়ারিয়রস। কারণ তিনি জানেন এই যুবসমাজকে হাতে রাখলে অনেকাংশ ভোট পদ্মশিবিরেই যাবে। তাই পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের জন্যও পরিকল্পনামাফিকই এগোচ্ছিল গেরুয়া শিবির। কিন্ত এ যে গোড়ায় গন্ডগোল। শুরুতেই জোর ধাক্কা খেলেন মোদী এন্ড কোং। সিবিএসই প্রশ্ন ফাঁস কান্ডে উদ্বিগ্ন যুবসমাজ। ” we want justice” – এর সাইন বোর্ড-এ রাজধানীতে ভিড় জমিয়েছে এই পড়ুয়ারা। দশম শ্রেণীর অঙ্ক এবং একাদশ শ্রেণীর অর্থনীতির প্রশ্ন ফাঁস কান্ডে নানান ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছে পড়ুয়ারা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকড় টুইট করে বলেন “সিবিএসই- এর দশম অংক পরীক্ষা সারা দেশে নতুন করে নেওয়া হবে না। পুলিশের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তবেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাও আবার শুধুমাত্র দিল্লী এবং হরিয়ানায়। এমনকি প্রশ্নফাঁস কান্ডের সমস্ত দায়ভার চাপালেন ছাত্র ছাত্রীদের ওপর”। অপরদিকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী খোঁচা দিয়ে টুইট করেন ” এগজাম ওয়ারিয়রস – এর দ্বিতীয় পর্বটি লিখে ফেলুন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্নফাঁসের পর ছাত্রছাত্রী আর তাদের বাবা মায়েরা কীভাবে চাপমুক্ত হবেন”? বিশেষ করে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী যারা পরের বছর দ্বাদশ শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষায় বসবে তারা কমবেশি সবাই ২০১৯ -এ সম্ভাব্য ভোটার। সংখ্যাটা প্রায় মেরে কেটে ১২লক্ষ ছাড়াবে। এই এত সংখ্যক পড়ুয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ কী কোনোভাবে পদ্মশিবিরের ভোট ব্যাঙ্ককে হতাশ করতে পারে? সেই নিয়ে চিন্তিত মোদী। অবশ্য প্রশ্ন ফাঁসের পরে তড়িঘড়ি কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকড় জানিয়েছেন যে মোদী ক্ষুব্ধ। তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর ফোনে কথা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর মোট ৬০ জনকে জেরা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অভিভাবক, কোচিং সেন্টারের মালিক এবং শিক্ষক, বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীও আছে। সূত্রের খবর, সিবিএসই বোর্ড -এর একাদশ শ্রেণীর অর্থনীতি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের কথা সিবিএসসি কতৃপক্ষ জানাতে পেরে গেছিল। কিন্ত কেনো তখন তড়িঘড়ি পরীক্ষা বন্ধ করা হল না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বোর্ড -এর তরফ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে একাদশ শ্রেণীর অর্থনীতির পরীক্ষা ২৫ শে এপ্রিলের মধ্যে নেওয়া হবে। তবে যারা দ্বাদশ শ্রেণীতে ভরতি হবে তাদের নাকি এই পরীক্ষা পেছোনোতে ভরতির প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। সব মিলিয়েই সিবিএসই -র ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তার জন্য কী কোনোভাবে বিজেপির
ভোটব্যাঙ্কে অনিশ্চয়তা ডেকে আনবে? নাকি মোদী এবং কোং বাহিনী আবার নতুন কোনো রণকৌশলে ভোটের বাজারে দাপিয়ে বেড়াবে। তা এখন দেখার বিষয়।