সিগারেট কি পারে মানসিক চাপ কমাতে??

সন্দীপ দেঃ-  পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ।মানুষ নাকি সমাজ সম্পর্কে বিরাট সচেতন।সমাজের সচেতন নাগরিক।এতো কিছুর পরেও কিন্তু একটা সমস্যা মানুষকে গ্রাস করছে।তা হলো নেশা।আমাদের নেশার প্রতি দুর্বলতা যেন একটু বেশীই।আমরা যতরকম নেশায় আসক্ত তার মধ্যে একটু বেশীয় আসক্ত ধূমপানে।আমরা জেনে বুঝেও সেই নেশার প্রেমে পড়ে আছি।বিড়ি, চুরুট ইত্যাদি ছেড়ে আমরা খুবই আপন করে নিয়েছি সিগারেটকে।ধূমপান সাধারণত দুই রকমের- সক্রিয় ধূমপান, নিষ্ক্রিয় ধূমপান। যে/যিনি সরাসরি ধূমপান করেন তার ক্ষতিটা যতোটা,যারা ধূমপায়ীদের কাছাকাছি থাকেন তাদের ক্ষতিও ততোটা।তাই জীবনের বাকী দিনগুলি সুস্থভাবে কাটাতে বাঁচার স্বার্থে কার সঙ্গে আপোস করবেন,সকালের মনোরম হাওয়া না সিগারেটের ধোঁয়া?তার সিদ্ধান্তও নিজেদেরই নিতে হবে।

Cigarette Smoking Is the Main Cause of Lung Cancer
Cigarette Smoking Is the Main Cause of Lung Cancer

এ কথা তো সত্য যে,নিকোটিন আমাদের শরীরে যে পরিমাণ জমছে তা খুবই চিন্তার কারণ।আমরা জেনেশুনে যেন ক্রনিক সুইসাইডের পথ বেছে নিচ্ছি।কৈশোর থেকে সুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত সব স্তরের মানুষই এ নেশায় আসক্ত।সকালের গৃহিণীর দেওয়া বাজারের ফর্দ ও ব্যাগ নিয়ে যে সকল মানুষরা বাজারের পথে পা রাখেন তারা হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে বাজারের পথে চলেন।শুধু তা নয় বাজারে প্রবেশ করার আগে গুমটি থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিতেও ভোলেলনা।সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে প্যাকেটের গায়ে বড় বড় করে “Tobacco Couses Cancer” লেখাটা দেখে একটু মুচকি হাসি হেসে প্যাকেটটাকে পকেট বন্দী করেন।

Kids smoking cigarettes.
Kids smoking cigarettes.

আর যুব সমাজ? তারা বাবার পকেট মেরেই হোক বা মা কে বিভিন্ন মিথ্যা কথা বলেই হোক সিগারেট খাওয়ার খরচ জোগাড় করে নেয়।তারা জানে সেন্সেটিভ জায়গাটা কোথায়?তা মাকে ম্যানেজ করা কোনো সমস্যায় হয়না তাদের।সিগারেট খাওয়া নিয়ে ছাত্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ,ব্যাবসাদার ও ডাক্তার থেকে ইঞ্জিনিয়ার অধিকাংশ মানুষের মত একটাই,প্রবল মানসিক চাপ থেকে নিজেকে কিছুটা রিল্যাক্স রাখতেই এই ধূমপান।এখন প্রশ্ন হল সিগারেট কি সত্যিই পারে মানসিক চাপ কমাতে?

nintchdbpict000302067087

এ ব্যাপারে চলুন দেখে নেওয়া যাক, কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য- তামাক জাতীয় যে সব পাতা জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরী হয় তাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে সক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ।এসব রাসায়নিক পদার্থকে একত্রে টার বলে।এই টার জাতীয় পদার্থ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।একে কারসিনোজেনিক পদার্থও বলা হয়।যা ক্যানসারের কারণও।ধূমপানে আজ আমরা আসক্ত। ধূমপানের ফলে সিগারেটের ধোঁয়া যেভাবে রক্তে মেশে তা খুবই মারাত্মক।ধূমপানের ফলে যে নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে তা ধীরে ধীরে ধূমপানের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।সাধারণত জানা গেছে ধূমপানের ফলে মস্তিষ্কে নিকোটিন পৌঁছাতে সময় লাগে দশ সেকেন্ড।নিকোটিন মস্তিষ্ককে সাময়িক নিস্তেজ করে করে দেয়,আর তার ফলেই মূলত আমরা বলি যে সিগারেট মানসিক চাপ কমায়।যদি তা হয় তাহলে এর ফল ভয়াবহ।

download

মস্তিকে কতটা ক্ষতি করে তা আমাদের জানা নেয়।তবে মস্তিষ্ক বাদে আর যা ক্ষতি করে তা আমরা জানি।হার্ট অ্যাটাক,ফুসফুসের ক্যানসার এ ব্যাপারে আমরা জানি।সিগারেট এসব রোগের মাধ্যমে আমাদের মৃত্যুকে ডেকে আনে।শুধু তা নয় পরিবারের রোজগেরে যদি এভাবে মৃত্যুর সম্মুখীন হয় তাহলে সমস্ত পরিবারটির কাছে নেমে আসে অন্ধকারও, যেটা সমাজ সচেতন নাগরিক হিসাবে একেবারেই কাম্য নয়।একটা মানুষ সারাদিনে সিগারেটের পেছেনে প্রায় ৭০-৮০ টাকা খরচও করে, যা উপার্জনের অনেকটায়।তাই সিগারেটের কুফল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।রবিঠাকুরের কথাটি এ ব্যাপারে মনে পরে যায় “মরিতে চাহিয়া না আমি সুন্দর ভুবনে/মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”।

anti-smoking-efforts-hfg-6206c8e224092688370a03365adba0eastopsmokingkills

একটি সমীক্ষায় প্রকাশ তামাকজাত দ্রব্য সেবনে প্রতি বছর আমেরিকাতে প্রায় ৮লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।আরো এক তথ্য হল ফুসফুসের রং গোলাপি,কিন্তু কলকাতার মতো যে সব জায়গায় দূষণের মাত্রা বেশী সেখানকার মানুষের ফুসফুসের রং ছাই রঙের।তাই ভাবার সময় এসেছে আমরা প্রকৃতির মনোরম বাতাস নেবো না সিগারেটের ধোঁয়া নেবো?সে ভাবনাটা একান্তই নিজস্ব।
smoking