শোভাবাজার রাজবাড়ির পূজো

 

আয়ুষ রায় :

কথিত আছে, ১৭৫৭ সালে শোভাবাজার রাজবাড়িতে পূজো শুরু করেন মহারাজ নবকৃষ্ণ দেব। বাড়িটি আগে শোভারাম বসাকের ছিল, ইতিহাস বলে। পরবর্তী কালে বাড়িটির মালিক হন রাজা নবকৃষ্ণ। বাড়িটি পরিবর্তন করেন, দিল্লি থেকে স্থপতি এনে তৈরি করান এই বাড়ির নাচঘর, খাবার বড় ঘর, দেওয়ানখানা ইত্যাদি। কারণ তাঁর পূজোয় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ। তিনি তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যতম। হাতির পিঠে চেপে পূজো দেখতে এসেছিলেন তিনি। পরের বছরই ক্লাইভ বাংলার গভর্নর হয়েছিলেন। শোনা যায় সপ্তমীর সকালে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পাঠানো ‘স্কচ হাইল্যান্ড ব্যান্ডের’ সঙ্গে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিল নবপত্রিকা। সাহেবদের তুষ্ট করতে তিনি খানাপিনা, আমোদ-প্রমোদের এলাহি আয়োজন করেছিলেন, যা’ পূজোর তিন দিন গভীর রাত পর্যন্ত চলেছিল ভোজ। আর ছিল যাত্রাপালা, তর্জা ও কবিগান, হিন্দু নর্তকীদের নাচ গান।

তখন থেকে আজও সাবেক একচালার মূর্তি। বোধন হয় কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে। পৌরাণিক ঘোটক আকৃতির সিংহ। রথের দিন হয় কাঠামো পূজো, তার পরে শুরু হয় মূর্তি তৈরি। পূজোয় অন্ন ভোগ হয় না। দেওয়া হয় নানা রকমের মিষ্টি। তা ছাড়া চাল ও ফলের নৈবেদ্য থাকে। আগে বাড়ির মহিলারা পর্দার আড়ালে বসে দেবী দর্শন করতেন। তবে সাবেক আচার অনুষ্ঠান আজও অটুট। ভোরে হয় মঙ্গল আরতি। দশমীর দিন হয় কনকাঞ্জলি।

রাজা নবকৃষ্ণের সাত রানির সন্তানাদি না হওয়ায় তিনি দাদার ছেলে গোপীমোহনকে দত্তক নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৭৮২ সালে তাঁর সপ্তম স্ত্রীর গর্ভে রাজকৃষ্ণের জন্ম হয়। আর সে কারণেই নবকৃষ্ণের সম্পত্তি দু’ভাগ হয়েছিল। নবকৃষ্ণের আদি বাড়ির বিপরীতে রাজকৃষ্ণের জন্য তৈরি
হয়েছিল নতুন এক প্রাসাদ। সেখানে ১৭৯২ থেকে আদি বাড়ির রীতি রেওয়াজ মেনেই শুরু হয় দূর্গাপূজো। রাজা রাজকৃষ্ণের পরিবারের প্রতিমাও একচালার, সাবেক রীতির। আজও এই দুই পরিবার পূজোর সাবেক ঐতিহ্য মেনে চলেন।