শিশুরা খাবে কি?

সন্দীপ দেঃ- আগের দিনের মায়েরা তার বাচ্চাটিকে সকালে খেতে দিত সাবু,বার্লি ও বাড়ীর গাভীর টাটকা দুধ।সময় বদলেছে,বদলে গেছে মানুষের খাদ্যাভাষ।বর্তমান দিনে মায়েরা হয়ে পড়েছে খুবই ব্যাস্ত।তারা বাচ্চাটির জন্য সাবু,বার্লির পরিবর্তে খেতে দিচ্ছে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাদ্য।ফলে বাড়ীর তৈরী খাবারের পরিবর্তে তাদেরও ঝোঁক বাড়ছে বাইরের খাবারে।শুধু বাচ্চারা কেনো?বাড়ীর অনান্য সদস্যদেরও প্যাকেটজাত দ্রব্যের প্রতি টান ভালো বেড়েছে।সকালে মায়েরা তার প্রিয় শিশুটিকে খাওয়াছে সেরিল্যাক,পিডিয়া সিওর,হরলিক্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার।সব জেনেশুনেই তারা বাইরের খাবারের প্রতি বেশী প্রেমানুরাগী হয়ে পড়েছে।তারা জানেন যে বাইরের খাবারে খাদ্যগুন মোটেই ভালো নয়,তবুও তারা স্ট্যাটাস মেন্টেন করতে এই খাদ্যভাষ চালিয়ে যাচ্ছে।বাইরের খাদ্যের কোনো গুণগত মান নেয় জেনেও তারা বাচ্চাটিকে তুলে দিচ্ছে প্যাকেটজাত দ্রব্য।শুধু তুলে দিচ্ছে নয়,তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে।বর্তমান তীব্র ব্যাস্ততার যুগে কম সময়ে তাড়াতাড়ি তৈরী করা যায় ম্যাগী।এই ম্যাগীর প্রতি মানুষের দুর্বলতা বেশ ভালোই।নেসলে কোম্পানীর ম্যাগীর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো অনেক আগেই।দুবছর আগে ম্যাগীর নমুনায় মিলেছিলো সীসা এবং মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট।নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো ম্যাগী বিক্রিও।বহু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ম্যাগীকে ক্লিনচিট দেয় ভারতীয় খাদ্য নিয়ামক সংস্থা।তারপর থেকেই আবার বাজারে ম্যাগী বিক্রি রমরমা করে চলতে থাকে।

8542558393_418a837179_k

সেই ম্যাগীতেই আবার পাওয়া গেলো অ্যাশ কনটেন্ট।মায়েরা তার বাচ্চাদের টিফিনে দেয় ম্যাগী।সেই ম্যাগীতেই পাওয়া গেলো অ্যাশ কনটেন্ট।অভিভাবকদের এখন খুবই চিন্তার ব্যাপার।তারা তাদের বাচ্চাদের ম্যাগীর পরিবর্তে কি বা খাওয়াবে?বর্তমানে বাড়ীর গাভীর দুধ পাওয়া যায়না বললেই চলে।আবার প্যাকেটজাত যে সব দুধ পাওয়া যায় তাতেও কোনো না কোনো ভেজাল আছে।তাছাড়াও বাচ্চারা প্যাকেটজাত দ্রব্যে এতটায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে,শুধু নির্ভরশীল নয় প্যাকেটজাত দ্রব্যে যে স্বাদ পেয়ে গেছে তা বাড়ীর খাবারে কি পাওয়া যাবে?পাওয়া যাবে না নিশ্চিত,তাই বর্তমান সময়ে অভিভাবকরা খুবই চিন্তিত তারা বিকল্প হিসাবে কি বা খাওয়াবে তাদের বাচ্চাদের? এখন প্রশ্ন নেসলের মতো নামী কোম্পানীর খাদ্যদ্রব্যে যদি এরকম জিনিস পাওয়া যায় তাহলে,অন্য কোম্পানীর খাদ্যদ্রব্যে পাওয়া যেতেই পারে।তাছাড়া রুচিরও একটা ব্যাপার আছে।স্বাদও ঠিকমতো পাওয়া নাও যেতে পারে।সাবু,বার্লিতো আর খাওয়া যাবে না।অর্থাৎ খেতে চাইবে না বাচ্চারা।তাই বাচ্চাদের খাওয়া নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে বাবা-মা রা।

সরকারকে কঠোর হতে হবে এইসব প্যাকেটজাত খাদ্য সম্পর্কে।তাদেরও ভাবতে হবে বাচ্চাদের সম্পর্কে।প্যাকেটজাত খাদ্যকে নিয়মিত পরীক্ষা করে তবেই বাজারে আনার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ভাবতে হবে সরকারকে।আর সরকারকে ভাবতে হবে যে/যারা শিশুদের খাবারে এরকম দুর্নীতি করছে তাদের কঠোরোতম শাস্তির কথা ভাবা উচিত সরকারের।