রামের চাপেই কি এবার দিশেহারা মোদী?

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

শেষ লোকসভা ভোটের সময় আরএসএসকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৯ এ সেই ঘটনার রেসের প্রতিশোধ নিতে সক্রিয় আরএসএস। রাম মন্দিরের জালে মোদীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে উৎসাহিত সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত।
আপাতত সমস্ত ঝঞ্ঝাটে জেরবার মোদী সব সংঘাত এরিয়ে নাগপুরের শরনাপন্ন। সঙ্ঘ সূত্রের খবর অনুযায়ী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং সাধু সংসদের সঙ্গে বৈঠক করে মোহন ভাগবত মোদীকে ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’ দিয়েছেন যে, নভেম্বরেই অধ‍্যাদেশ এনে ৬ ডিসেম্বর থেকে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে।

তবে সুপ্রিমকোর্টের অবস্থান না দেখে অরুন জেটলি রাজনাথ সিংহের মতো নেতারা কোনো সিধান্ত নেওয়ার পক্ষে নন। বাবরি মসজিদ ভাঙার ২৬বছর পর রাম মন্দির ইস্যু কার্যত মৃত এটাই বিজেপির একাংশের মতামত। সঙ্ঘ মনে করছে, যা চাপ সৃষ্টি হয়েছে তাতে মোদীর রাম ছাড়া গতি নেই। অর্থনীতির অবস্থা ও তথৈবচ, ক্রমবর্ধমান বেকারি। সিবিআই আরবিআই- এ ডামাডোল। তার মধ্যে রাহুল গান্ধীর রাফাল তোপ গোটা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে, এখন মন্দির নিয়ে ঝাঁপানো ছাড়া পথ নেই।

এখন এই সুযোগের সদ ব‍্যবহার করতে তৎপর সঙ্ঘ। এখন তাদের বড়ো অস্ত্র যোগী আদিত‍্যনাথ যোগীকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করতে চাননি মোদী, সঙ্ঘ ও চাননি। কিন্তু এখন তাকেই কাজে লাগাচ্ছে আরএসএস। সম্প্রতি লখনউয়ে যোগীর সঙ্গে দেখা করেন অমিত শাহ। আর তার পরেই আরএসএস আইন করে মন্দির তৈরির দাবি করেন। যোগীও বিরাট রাম মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার জন‍্য তিনি মোদীর মতামতের তোয়াক্কা করেননি। সঙ্ঘের অন্দরমহলে অনেকেই বলছেন, মোদীর পটেল মূর্তির পাল্টা হিসেবেই সুর চড়াচ্ছেন যোগী। তাতে মোদীর চিন্তা বাড়াচ্ছে।

মোদী-শাহের চিন্তা রয়েছে গডকড়ীকে নিয়েও। ভাগবত এখনো গডকড়ীর উপরে বেশি নির্ভরশীল। প্রতি সপ্তাহে নিতিন নাগপুরে গিয়ে ভাগবতের সঙ্গে দেখা করেন। বিজেপি সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভাগবত বিদেশে গিয়েছিলেন অনাবাসী ও প্রবাসী সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করতে। তিনি গডকড়ীকে সঙ্গে ও নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি কাজের যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী দফতর নিতিনকে ছাড়পত্র দেয়নি। এবং তাতে বেজায় অখুশী আরএসএস। সঙ্ঘের এই ক্ষোভ নিঃসন্দেহে মোদীর কাছে অস্বস্তিকর। কিন্তু নিরুপায় মোদীরা সঙ্ঘের রামের চাপেই দিশেহারা!