রাফালের প্রথম ‘ঘুষের’ কিনারা দেখালেন রাহুল

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা

রাফাল নিয়ে তদন্ত হলে বাঁচতে পারবেননা নরেন্দ্র মোদী এমনটা দাবী করলেন রাহুল গান্ধী। রাফাল কেলেঙ্কারির প্রথম ‘ঘুষ’ এর হদিশ দিলেন তিনি। তিনি এও বলেন যে টেনশন রাতের ঘুম কেড়েছে মোদীর, ভয় পাচ্ছেন ধড়া পড়ে যাওয়ার। দুর্গন্ধ সোজা যাচ্ছে রেস কোর্স রোডে।

যুব কংগ্রেসের দল যখন আজ রাফাল দুর্নীতির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের পদক্ষেপ নিয়েছেন ঠিক তখনই কংগ্রেসের দফতরে বসে বিষ্ফোরণ এর তোপ নিক্ষিপ্ত করেন রাহুল। বলেন, রাফালের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে গতমাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের প‍্যারিস সফরের পরে দাসো-র সিইও এরিক ত্রাপিয়ে বলেছিলেন, জমি ছিলো বলেই অনিল আম্বানীর সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে , লোকসানে চলা অনিলের সংস্থাকে ২৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে দাসো। সেই টাকাতেই জমি কেনা হয়েছে। এটাই রাফাল দুর্নীতির ঘুষের প্রথম কিস্তি। খুব তাড়াতাড়ি আরো বেরোবে।

দুই দিন আগেই সুপ্রিমকোর্ট রাফালের দাম জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল সরকারকে। কিন্তু সরকারের দাবি, সে সব তথ‍্য গোপন। রাহুলের দাবি তথ‍্য গোপন হতেই পারেনা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁকর আমাকে সেটা বলেছেন। দাসোর বার্ষিক রিপোর্টেও লেখা আছে, ভারত কত দামে রাফাল কিনেছে। সিবিআই প্রধান অলোক বর্মার কাছে সমস্ত প্রমাণ ছিলো। তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছিলেন তিনি, প্রধানমন্ত্রী তদন্তে ভয় পান বলেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি যদি নাই হতো তবে প্রধানমন্ত্রী বলতেই পারতেন যে তদন্ত হোক। তবে তদন্ত হলে যে, তিনি নিষ্পত্তি পাবেননা সেটা নিশ্চিতরূপে তিনি জানেন।

এবং শুধু তাই নয় রাহুলের এমন অভিযোগের পরেও প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তিনি অরুণ জেটলির সঙ্গে বসে ছোট ও মাঝারি শিল্পের সম্মেলনে আছেন। এত তোপের আক্রমণে মুখে কুলুপ প্রধানমন্ত্রীর, কোনো রকমের প্রতিক্রিয়া দেখাননি। দলের নেতারা ঘরোয়া মহলে বলছেন, রাহুল ঘুমেও রাফালের স্বপ্ন দেখছেন! কংগ্রেস উওর ও দিয়েছে, জবাব থাকলে তো দেবে। রাহুলের সমর্থনে এদিন কাগজপত্র দেখান কংগ্রেস নেতারা।

সেই নথি তে অনিলের ৮লক্ষ ৩০হাজার টাকার সংস্থায় ২৮৪ কোটি টাকা দিয়েছে দাসো। রাহুলের বক্তব‍্য অনুযায়ী ” দাসোর সিইও এখন মিথ্যা বলছেন শুধু মাত্র একজনকে আড়াল করতে চাইছেন। যিনি দেশের সরকার, নরেন্দ্র মোদী।” হ‍্যালের হাতে অনিলের সংস্থার থেকে বেশি জমি আছে।” তাঁর মন্তব্য “১০১ শতাংশ ঘুষ! সরকার হয়তো জেপিসি করবেনা। কিন্তু সবথেকে বড়ো ও জরুরি বিষয় হলো সিবিআই প্রধানকে সরানো।