রক্তাক্ত ভূ-স্বর্গ

 

তথাগত চট্টোপাধ্যায়

আচ্ছা কখনও দেখেছেন একটা গোটা দেশের মানুষ তেড়েফুঁড়ে উঠে বলছেন “বদলা চাই!” এখানে ভাবার মত বিষয় হল “নানা ভাষা নানা মত…”-এর দেশ ভারতবর্ষ হঠাৎ কেন বলে উঠবে “এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক অমুক দেশ কে।” বা “এবার পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যাক তমুক দেশটার অস্তিত্ব।” আমরা তো যুদ্ধ নয়;শান্তি চাই এর নীতিতে বরাবর বিশ্বাস করে এসেছি। কিন্তু যখন বিনা কারনে দেশের জওয়ান দের তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে যায় তখন? যখন শহিদ হওয়া সেনা দের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাদের বাড়ির লোকেরা আছাড়ি-পিছাড়ি খায় তখন? যখন উপত্যকায় আরডিএক্স বিস্ফোরণের পর জঙ্গি সেনারা বুক ফুলিয়ে ভিডিও-তে বলে “আমার কৃতকর্ম আমাকে জন্নতে যাওয়ার রাস্তা খুলে দিল।” তখন? আপনি যদি “সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তান হমারা” এ কথাটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, তাহলে “বদলার” আগুন আপনার বুকে জ্বলে উঠবেই! বৃহস্পতিবার কাশ্মীর উপত্যকার ‘পুলওয়ামা’ এক অতি নৃশংস হত্যালীলার সাক্ষী রইল। যে মানুষগুলো বন্দুক হাতে সীমান্তে শূণ্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় কড়া পাহারায় দেশ কে আগলে রাখেন তাদেরকেই প্রাণের আহুতি দিতে হল। সেই সঙ্গে আরো একবার “সন্ত্রাসবাদী” দের হানায় রক্তাক্ত হল কাশ্মীর ভূমি। ঘটনাচক্রে কাশ্মীর উপত্যকায় পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীদের অতর্কিত হামলা নতুন ঘটনা নয়। তবে পুলওয়ামায় এ বারের সেনা কনভয়ের ওপর পাক জঙ্গি হানা একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিল। প্রশ্ন উঠছে, আরডিএক্স-এ ঠাসা গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের পর আত্মঘাতী জঙ্গি (আদিল) ছাড়া অন্যান্য সব জঙ্গিই ঠিক কি ভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে গেল? প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গি গোষ্ঠীর (জইশ-ই-মহম্মদ) আগেভাগে দেওয়া হুমকি সত্ত্বেও কেন সেনা কনভয় কে আকাশপথে নিয়ে যাওয়া হল না? কেনই বা সেদিন অপর প্রান্তের জম্মুগামী রাস্তা খোলা থাকল? প্রশ্ন অনেক। কিন্তু উত্তর? অজানা। পরিশেষে আর একটা কথা। সন্ত্রাসের না থাকে কোনো ধর্ম। থাকে না কোনো জাত। সে শুধু বোঝে বুলেট, রক্ত, স্বজন হারানোর হাহাকার! তাই মিটুক সন্ত্রাস;চাই না প্রাণ নাশ। গুপি-বাঘা থাকলে তারা আবারো হয়ত গান ধরত “ওরে হাল্লা রাজার সেনা;তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল!”