মোদীর উপর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প

 

হেমাশ্রী বিশ্বাস, কলকাতা:-   প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিল্লি সফরে ক্ষেপনাস্ত্র -প্রতিরোধী ব‍্যবস্থা ‘এস-৪০০’ কেনার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ায় বেশ চটেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ”ঠেলা বুঝবে দিল্লি” বলে মন্তব্য ও করেছিলেন। কূটনীতিরা নিশ্চিত নন, আজ সেই ঠেলাই বুঝিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফর ঘিরে চরম অস্বস্তিতে নরেন্দ্র মোদী। সংবাদ মাধ‍্যম মারফত খবর অনুযায়ী আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় ট্রাম্পকে। গত অগস্টে আমন্ত্রন পাওয়ার কথা   স্বীকার করেছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা স‍্যান্ডার্স। কিন্তু সেই নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন অন‍্য কর্মসূচি থাকায় ভারতে আসতে পারবেন না। এ নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য জানাননি ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। রাজধানীর মার্কিন দূতাবাস ও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাদের বক্তব্য হোয়াইট হাউস যা বলার বলবে। সাউথ ব্লকের সূত্রের দাবি শেষবারের আমেরিকা সফরে গিয়ে মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভারত সফরে আসতে বলেন ঠিকই, তবে নির্দিষ্ট করে ২৬ জানুয়ারিতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি তাঁকে। জানুয়ারিতে ট্রাম্প না এলে মোদীর শাসনকালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারন ২০১৯ -এর মার্চ থেকেই লোকসভা ভোটের তোড়জোড় শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। এই ঘটনা দিল্লির কূটনৈতিক ব‍্যর্থতা দেখছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে দুই দেশের মধুর সম্পর্ক নেই। এদিকে মোদী কথায় কথায় অন‍্য রাষ্ট্রপ্রধানদের জড়িয়ে ধরেন। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবি ও করেন। দৃশ‍্যত দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি অন‍্য রকম। এদিকে দিল্লিতে ‘ইকনমিস্ট ইন্ডিয়া সামিট’-এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বলেন “রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ কেনায় বদ্ধপরিকর ভারত। আমাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। এই কারনে আমেরিকার অবস্থানে আমি সত্যি কৃতজ্ঞ এবং খুশি। ” প্রশ্ন এখন এখানেই যে তাহলে কি ওয়াশিংটনের অবস্থান বুঝতে ভুল করেছিলো দিল্লি সরকার? আর এবার সেটাই বুঝিয়ে দিলো ট্রাম্প? ইরানের থেকে তেল কেনা বন্ধ না করাটাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারন ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছিল ইরানের থেকে তেল কিনলে ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে বাধ‍্য হবে তারা। সংবাদ সংস্থা গুলির দাবি ওয়াশিংটন জানিয়েছে যে জানুয়ারিতে ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ বক্তৃতা আছে। তাই ভারতে আসতে পারবেন না ট্রাম্প। অতীতের ছবিতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দুইবার ভারত সফরে এসেছেন, এবং একবার ২৬ জানুয়ারিতে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন ‘স্টেট অব দ‍্য ইউনিয়ন’ বক্তৃতা থাকা সত্বেও। যতই ক‍্যামেরার সামনে আলিঙ্গন দেখানো হোকনা কেনো, এটা স্পষ্ট ওবামার সময়ে দু’দেশের সম্পর্কের উষ্ণতা ছিলো, সেটি এখন আর নেই।