মর্ত্তের কৈলাশ পর্বতে দেবী দশভূজার আগমন ঘটবে সুন্দরবনের গ্রামে

সুভাষ চন্দ্র দাশ ঃ বাসন্তী ঃ —কখনও তিনি জ্ঞানের প্রতীক। কখনও বা শক্তির। কখনও তিনি শংকরী। কখনও সুরেশ্বরী। তিনি দেবী দুর্গা। এবছর বাসন্তীর হিরন্ময়পুর সার্ব্বজনীন দুর্গোৎসব ৩৭ তম বর্ষে পদার্পণ করল।কৈলাশ থেকে দেবী দুর্গার আগমনের দৃশ্য তুলে ধরতে ২ লাখ টাকা বাজেটের এই প্রচেষ্টাকে বাস্তবে রুপ দিয়ে জনসমকক্ষ তুলে ধরতে মরিয়া বাসন্তী ব্লকের হিরন্ময়পুরের বাঁশীরাম বাজার দুর্গোৎসব কমিটি।
তিতলী কে উপেক্ষা করে সুজল-সুফলা-শষ্য-শ্যামলা সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত দ্বীপ এলাকায় দিগন্ত বিস্তৃত ধানের ক্ষেতে সোনালী শরতের পুলকিত সবুজের ঢেউ,আকাশের ভাসমান পুঞ্জীভূত মেঘরাশি, কাশ ফুলের অপরুপ সৌন্দন্দর্য্য,দোয়েল-শ্যামা-পাপিয়ার অপূর্বসংগীত মূর্ছনায় রোদ ঝলমল শরতের বর্ণাঢ্য শোভায় বাংলার প্রত্যন্ত দ্বীপ এলাকায় সেই সুদর্শন কৈলাশ পর্বত থেকে দেবী দশভূজার আগমন কে তুলে ধরতে খুবই ব্যস্ততার সাথে প্রতিমার রুপদান করতে শেষ তুলির টান দিতে বদ্ধ পরিকর প্রতিমা শিল্পী পদ্মরাজ নস্কর।

থিমের প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সভাপতি রবীন্দ্র নাথ রায় বলেন, “এই বছরে আমাদের মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে কৈলাশের অস্তিত্বকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস করছি।”
অন্যদিকে পূজাকমিটির সম্পাদক হিমাংশু মন্ডল বলেন “সমগ্র বাংলা সহ সুন্দরবনে শান্তি ফিরে আসুক, জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠুক। সেই শান্তির পরিবেশ মানুষের মধ্যে তুলে ধরতে আমাদের এই ভাবনা।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চাচলের মানুষজন সূদূর কলকাতা গিয়ে ঠাকুর দর্শন করতে একেবারেই অপারগ, যাতে করে গ্রামের মানুষজন শারদীয়ার কয়েকটা দিন আনন্দ উপভোগ করে আনন্দিত হয় তার জন্য আমাদের এই দীর্ঘদিনের প্রয়াস। ”

অন্যদিকে পূজাকমিটির অন্যতম সদস্য তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক আশীষ কুমার প্রধান বলেন “পুজা কটাদিন আমরা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন একত্রিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করি,সেই সাথে পূজার প্রতিদিনই আমাদের মন্ডপে নানান ধরনের শিক্ষামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এছাড়াও থাকে নরনারায়ণ সেবা,আমাদের দীর্ঘদিনের রীতিনীতির নিয়ম অনুযায়ী বিসর্জন হয় একাদশীতে”।