বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ভারতের বিদায়

নয়াদিল্লি : নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- দু-চোখে স্বপ্ন ছিল অনেক | আর স্বপ্ন থাকবে নাইবা কেন | ভারতীয় টিম প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে , তাও আবার নিজের দেশের মাটিতে | তাই আবেগ আর বাঁধ ভা ঙা উচ্ছাস নিয়ে শুরু হয়েছিল অনুর্দ্ধ 17 ভারতীয় দলের বিশ্বকাপ অভিযান | আসলে মাঠেতো শুধু ঐ 11 জন প্লেয়ার খেলেনি, তাদের সঙ্গে সঙ্গে খেলেছে 130 কোটি ভারতবাসীও |

কিন্তু আবেগ যে হারমানে যুক্তির কাছে | আর সেই যুক্তির ওপর নির্ভর করেই প্রত্যাশা মতই হারল ভারত | শক্তিশালী ঘানার কাছে 4 – 0 গোলে হেরে অনুর্দ্ধ – 17 বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ভারত | কিন্তু সব কিছু হার দিয়ে বিচার হয় না | সব কিছুরই একটি পজিটিভ দিক রয়েছে | হারলেও বীরের মতন লড়াই করেছে এই তরুন ব্রিগেড | হয়তো তারা ভালো খেলতে পারেনি, কিন্তু তাদের দেখে কখনই মনে হয়নি যে তারা কোন রকম টেনশনে রয়েছে | শক্তিশালী ঘানার বিরুদ্ধে তারা স্বাভাবিক ফুটবলই খেলেছে | এবং মাথা উঁচু করেই স্টেডিয়াম ছেড়েছে মাতোসের টিম |

আসলে ভারতের হারানোর কিছুই ছিলনা | ভালো লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়াটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য | তবে সুযোগ একটা তৈরি হয়েছিল ভারতের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার | যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া 1-1 এ ড্র করে | তাই এ দিন ভারত জিততে পারলে সম্ভবনা একটা থাকত | তাই কোচ প্রথম থেকেই জেতার জন্য ঝাঁপাতে বলে ছিলেন | কিন্তু ধারে ভারে ,শক্তি সামর্থে ঘানা ছিল খুবই শক্তিশালী টিম | ভারত যেখানে ফিফা রাঙ্কিংয়ে 107, ঘানা সেখানে 52 | কিন্তু তা স্বত্বেও ভারতীয় খেলোয়াড় দের মধ্যে কোন ভীতি দেখা যায়নি | প্রথম থেকেই পজিটিভ ফুটবল খেলতে থাকে তারা | কিন্তু প্রথমার্ধে 1-0 গোলে পিছিয়ে থাকলেও ঘানা অধিনায়ক এরিক আইয়া’র দু’অর্ধে করা জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত 4-0 গোলে হেরে যায় ভারত |
তবে হারলেও ভারতীয় তরুন ব্রিগেড এর এই লড়াইকে বারবার কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা স্টেডিয়াম | খেলার শেষ মিনিট পর্যন্ত তাদের প্রবল শব্দব্রম্ভ মুর্হমুর্হ আছড়ে পড়ছিল গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে | হেরে যখন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে লুইস নর্টন দ্য মাতোসের টিম, তখন গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছে গোটা ভারতীয় টিমকে | আর দলের সেনাপতি পর্তুগিজ কোচ নমস্কার করতে করতে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে যাচ্ছে তার সেনাবাহিনী নিয়ে | এমন বিরল দৃশ্য ভারতীয় ফুটবল আগে কখনো দেখেছে কিনা জানা নেই !! তবে এই লড়াই যে আগামীদিনের ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ বীজ রচনা করলো তা বলায় চলে।