বিডন স্ট্রিটের দেব বাড়ির দূর্গাপূজো

আয়ুষ রায় :- উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির পূজো বলতে বিডন স্ট্রিটের ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ির পূজোর কথা মনে হয়ে প্রথমেই। ১৭৮০ সালে এখানে প্রথম দূর্গাপূজা শুরু করেন লাটুবাবু অর্থাৎ রামদুলাল দে। সেইসময় কলকাতার অন্যতম বৈভবশালী ও ঐশ্বর্যশালী ছিল রামদুলাল দে’র পরিবার। কোলকাতার বাবু কালচারের ইতিহাসে ছাতুবাবু-লাটুবাবুর নাম সর্ব প্রথম বলা যায়।

একচালার প্রতিমায়, মা পূজিতা হন দশমহাবিদ্যার রূপে। মায়ের দু’পাশে থাকেন মা দূর্গার দুই সখী জয়া ও বিজয়া। এখন কুমোরটুলির ডাকের সাজের প্রতিমায় পূজো হয়। পূজোর রীতিনীতি প্রাচীন মতে আজও হয়। পূজোর সব কাজ করেন পরিবারের সদস্যরাই। এবাড়ির পূজোয় বলির প্রচলন আছে। তবে পশু বলি নয়। চালকুমড়ো ও আখ বলি হয় এখানে। পূজোয় মাকে অন্নভোগই দেওয়া হয়।

ঐতিহ্যময় ঠাকুর দালান আজও বর্তমান। নবমীর দিন বিশাল খাওয়াদাওয়ার আয়োজন থাকে। প্রায় হাজারখানেক মানুষ নিমন্ত্রিত থাকেন। মাকে বিদায় দেওয়ার আগে একসময় এবাড়িতে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি ছিল, এখন হয় না। প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে কনকাঞ্জলির দেওয়ার রীতি চালু আছে। এখন পুরোহিতরাই কনকাঞ্জলি করেন।

ব্রিটিশরা যখন ভারতে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছে সেই সময় বাংলার ব্যবসায়ী মহলের একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল রামদুলাল দে। ১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের পর অ্যামেরিকার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন রামদুলাল দে। এদেশ থেকে মশলা, মসলিন পাঠানো হতো মার্কিন মুলুকে। তার বদলে ওদেশ থেকে আসত নানারকম পণ্য। ব্যবসায়ী রামদুলাল দে’কে বেশ সমীহ করতেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন। তিনি খুশি হয়ে রামদুলালবাবুকে ৫টি বিজ়নেস হাউজ় উপহার দিয়েছিলেন।রামদুলাল দে’র কোষাগার ছিল এমন উন্নত, তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল কলকাতার বুকে এমনি জাঁকজমপূর্ণ দূর্গাপূজো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য এই পুজোর আড়ম্বর কমতে থাকে। এখন ছাতুবাবু-লাতুবাবুর বাড়ির পুজো করে একটি ট্রাস্ট।