বাংলায় বিজেপি আসার সম্ভাবনা কতটা ?

স্বপন কারিকর, (এডিটর)ঃ- ত্রিপুরায় গেরুয়া ঝড় দেখে রাজনৈতিক মহলে,সে বাম হোক বা ডান ,গেরুয়া হোক বা নীল-সাদা সব শিবিরেই একটাই আলোচনা , বাঙলায় কি ত্রিপুরার ফল প্রভাব ফেলবে ?
সন্দেহ নেই ত্রিপুরায় এবারের পালা বদল ২০১১-র পশ্চিমবঙ্গে লাল ঝান্ডা বিদায়ের স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম এর রাজ্য -পাট উল্টে দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন মমতা। ত্রিপুরায় ২৪ বছর ক্ষমতায় থাকা সিপিএমকে কার্যত দুরমুশ করে নজির গড়ল বিজেপি।
এখন রব উঠেছে , এবার কি বাংলায় আসতে চলেছে গেরুয়া ঝড় ? বিজেপির বড়-মেজো-সেজো নেতারা তো বটেই , অনেক পুঁচকে নেতারাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, মোদি-অমিত জুটি অচিরে মমতার গদি টলিয়ে দেবে।
রাজনীতির গতিপথ সহজ ও সরল নয় । পরতে পরতে আসতে থাকে তার চমকও। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের ৫ উপনির্বাচনে মিলেছে তার প্রমাণ । চির-প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল সমাজবাদী পার্টি ও বহু জন সমাজবাদী পার্টি হাত মিলিয়ে নিজেদের গড়ে বিজেপিকে যে ধাক্কা দিয়েছে তাতে লোকসভা ভোটের আগে জাতীয় রাজনীতিতে পাল্টে যেতে পারে অনেক সমীকরণই । অন্যদিকে বিহারের জেলে বন্দি থেকেও এন ডি এ -সঙ্গী নিতিশ কুমারকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছেন লালু প্রসাদ যাদব।
এবারের উত্তর প্রদেশের প্রচারের দায়িত্ব মোদী-অমিতকে না দিয়ে নিজেই নিয়েছিলেন যোগী । কিন্তু গোবলয়ে গোহারা হয় গেরুয়া । বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত ৪ বছরে ২১ টি উপনির্বাচনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে মাত্র ৪ টিতে । ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের পর এন ডি এ জোটের মোট সাংসদ ছিল ৩৩৬ । এর মধ্যে বিজেপির ছিল ২৮২ । কিন্তু গত ৪ বছরে হওয়া মোট ২১ উপনির্বাচনে দেখা যাচ্ছে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ১০ কমে হয়েছে ২৭২ ।
ত্রিপুরায় ৫ বছর আগে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪২% ভোট আর বিজেপি মাত্র ১.৫%। ২০১৮ তে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সবটাই ভেঙ্গে চলে এল বিজেপিতে। এবারের মোট ৬০ টি আসনের ৪১ টিতেই দাঁড় করানো হয় পুরানো কংগ্রেসি মুখকে । এর ফলে হাত চিহ্নের ভোট নেমে এসেছে ১.৮% এ । আর গেরুয়ার ভোট বেড়ে গিয়ে পোঁছয় ৪৩% এ ।
বাঙলাতেও বিজেপির ভোট দিন দিন বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই । কিন্তু দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস ও সিপিএমের ভোট যত দিন যাচ্ছে তত তলানিতে ঠেকছে । হিসেব করে দেখা যাচ্ছে শাসক অর্থাৎ তৃণমূলে যত ভোট পড়ছে ,বিরোধী তিন দলের মিলিত ভোট ও তত হচ্ছে না ।
রাজনীতিতে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায় শাসক দলের অনেক নেতাকেই দল ভাঙিয়ে বিজেপিতে টেনে আনবেন । কিন্তু সেই সংখ্যাটা কত ? ৫-১০-২০, তার কি বেশি হতে পারে ? কারণ যারা আসবেন সঙ্গে করে নিজেদের জেতার মোট ভোটটুকুও আনতে পারবেন তো ? তাই কতগুলো নেতা তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়ায় পা দেবেন সেটি লাখ টাকার প্রশ্ন ।
এবার আসি দিদি প্রসঙ্গে । অন্য নেতাদের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও মমতার কন্যাশ্রী –যুবশ্রী-রুপশ্রী বা সাইকেল বিতরণ প্রকল্পগুলি গ্রাম -গঞ্জের মানুষ সাদরে বরণ করে নিয়েছে ।অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে গেরুয়ার তুলনায় ঘাস্ফুল যে অনেকটাই এগিয়ে তা অনেক বিজেপি নেতাও অস্বীকার করতে পারেন না । আবার কংগ্রেস ও বাম এক জোট হলে তাদের মিলিত ভোট ব্যাঙ্ক ও কিছুটা বাড়বে । তখন বিরোধী ভোট দু- দিকে ভাগাভাগি হবে । আর তাতে আখেরে লাভ মমতারই ।