পাঁচ রাজ্যে’র ফলাফল শাসকবিরোধী, কংগ্রেসের হাতে রাজস্থান, ছত্তিসগড়, মিজোরাম হাড্ডাহাড্ডি মধ্যপ্রদেশে, তেলেঙ্গানা টিআরএস

 

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া

বুথফেরত সমীক্ষা জানিয়েছিল পাঁচ রাজ্যে ভোটের ফলাফল বিজেপির বিরুদ্ধে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যালট বাক্স খুলতে কংগ্রেসের পালে হাওয়া দিতে শুরু করেছে। বেলা সাড়ে এগারোটা অবধি দেখা যায় পাঁচ রাজ্যে বিজেপি’র ঝুলিতে প্রায় কিছুই রইলো না।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বার্তা, আম আদমির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত এতটা সহজে শিথিল হয়ে যাবে প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। কেউ রা না কারলেও অস্বস্তি যে রয়েছে তা প্রকাশ পাচ্ছে। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আশা শেষ সময় অবধি বাজি পাল্টাতে পারে মধ্যপ্রদেশে। তবে তা যে সম্ভব নয় একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

ছত্তিসগড়, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম। এই পাঁচ রাজ্যে ছিল বিধানসভা নির্বাচন। রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার জমানায় ইতি টেনেছে কংগ্রেস। দীর্ঘ পনেরো বছর পর পালাবদল হতে চলেছে। ছত্তিসগড় সেখানেও সরকার গড়ার পথে হাত শিবির। মিজোরামে কার্যত ধূলিসাৎ বিজেপি। অন্ততপক্ষে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত যা ট্রেন্ড আসছে। ভোট বাক্সে মস্ত বড়ো প্রভাব ফেলেছে কংগ্রেস।

মধ্যপ্রদেশ ভারতের হৃদয়। সেখানেও লড়াইয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে কংগ্রেস। ২৩০ আসনের বিধানসভায় বিজেপিকে কাঁটে কি টক্কর দিচ্ছে কংগ্রেস। এই মুহূর্তে ১১৭ সিটে এগিয়ে কংগ্রেস। অন্যদিকে বিজেপি এগিয়ে ১০০ আসনে। তবে কি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সরকারের পতন হচ্ছে? এই প্রশ্ন আসমুদ্রহিমাচল জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।

পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেসের ফলাফল আশানুরূপ হওয়ায় রাহুল গান্ধীর প্রশংসা সর্বত্র। তবে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কথায় এই ফলাফল রাহুল গান্ধীর জন্য নয়। পনেরো বছর আমাদের কিছু ভুলের জন্য হতে পারে ভোট কংগ্রেসে গেছে। এজন্য রাহুল গান্ধীর কোনও ভূমিকা নেই।

মধ্যপ্রদেশে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান৷ এবারেও তাঁর দল উতরে যাবে এমনটাই আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু যত রাউন্ড এগিয়েছে সমানে সমানে চলেছে কংগ্রেস। অধিকাংশ সময় এগিয়ে থেকেছে। বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। বিজেপি’র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল। শাসক-বিরোধী উভয়ের জমি ফেরাতে এই পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফল অনেকটা নির্ভর করবে। সেক্ষেত্রে লোকসভা ভোটের আগে অনেকটা এগিয়ে শুরু করবে বিরোধীরা।

এই খবর যাওয়ার সময় মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ১১৪ আসনে, কংগ্রেস ১০৭ এবং অন্যান্য ৯টি আসনে এগিয়ে।