নেশামুক্তর পথে কি এগোতে চলেছে বিহার?

অর্পিতা বসু, কলকাতা:- বিহার থাকবে অথচ খৈনী থাকবেনা, এতো বিহারবাসীর কাছে খুব দুঃস্বপ্ন!কিন্তু এই দুঃস্বপ্ন খুব শীঘ্রই সত্যিই হতে চলেছে বিহারে।তাই এই খৈনী বন্ধের ভাবনাচিন্তা করছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার।
সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে,যে মুখের ক্যান্সারে বহু মানুষ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এই মানুষ মৃত্যুর তালিকার শীর্ষে প্রথমে নাম উঠে এসেছে বিহারের।তথ্যভিক্ষ মহল থেকে জানানো হয়েছে যে বিহারের রাজ্য সরকার খৈনী জাতীয় তামাকজাত পদার্থ ক্রয় ও বিক্রয় বন্ধ করার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা করছেন।স্বাস্থ্যসচিব সঞ্জয় কুমার জানাচ্ছেন খৈনীকে খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি চিঠি কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে একটি সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রতি বছর ১২লক্ষ মানুষ শুধুমাত্র তামাকজাত দ্রব্য খাওয়ার কারণে মারা যাচ্ছে।তার মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে।এই ৮০ শতাংশের মানুষের একটি বড় অংশ হল বিহারের রাজ্যবাসী।
২০১৪ সাল থেকে বিহারে গুঁটখা, পানমশলা,জর্দা এগুলির বিক্রি ও উৎপাদন বন্ধ করে দিলেও তামাক ও খৈনীর উপরে কোনো নিষেধাক্ষা জারি করা হয়নি।এর ফলে মানুষ আরো মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।এমনকি বিহারে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ সকলেই খৈনী খাওয়ার নিয়মিত খাদক।স্বাস্থ্যসচিব সঞ্জীব কুমার বলছেন,বিহারের প্রতি ৫জনের মধ্যে ১জন নিয়মিত খৈনী খায়।সিগারেট তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলে খৈনী বন্ধের কোনো নিয়ম নেই।তাই রাজ্য সরকার সহ সাস্থ্যসচিব সকলেই খৈনী বন্ধ করার জন্য নতুন নিয়ম তৈরি করার প্রচেষ্টা করছেন।
এখনো বিহারে খৈনী বন্ধের ওপর কোনো নিষেধাক্ষা জারি করা হয়নি।কিন্তু ওপরমহল থেকে জানা যাচ্ছে যে খুব শীঘ্রই বিহারে খৈনীর মতো বিষাক্ত বস্তুর বিক্রি ও উৎপাদন কমানো হবে ও মানুষের মৃত্যুর হার কমবে।
এটাই এখন দেখার বিহারে সত্যি কি নেশার পরিমাণ কমবে কিনা নাকি আরো বেড়ে যাবে?