নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকার।

মৌসুমী সাহা, হাওড়া:- নারীর অপমান, লাঞ্ছনার প্রতিবাদ জানাতে স্বয়ং কবিগুরু গর্জে উঠেছিলেন প্রায় ১৫০ বছর আগে।নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়াও যে আমাদের সামাজিক  কর্তব্য। কিন্তু আজও কি নারী তার প্রাপ্য  সম্মানটুকু পাচ্ছে? নারী কি আজও লাঞ্ছিতা অপমানিতা ধর্ষিতা নয়?আর কেনই বা ছিনিয়ে নিতে হবে অধিকার? কেনই বা নারীকে দেওয়া হবে অধিকার ভিখ্খাপাত্রে ভিখ্খার সমান। পুরুষ যদি স্বমহিমায় তার মৌলিক অধিকার প্রাপ্ত হয় তাহলে নারী কেন নয়? কেন শুধু নারীরাই ধর্ষিতা,লাঞ্ছিতা,অপমানিতা হয় আর সেটা পুরুষের দ্বারাই? কেন একজন নারী সমাজের বুকে নিশ্চিন্তে,নির্দ্বিধায়, অকপটে নিজের  মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে না?

পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি থেকে সদ্যজাত শিশু টিরও রক্খা নেই।মানুষ কি আবার আদিম যুগে ফিরে গেছে? কিন্তু তখন তো পোশাক ছিল না,শিক্খা ছিল না। এখনও কোনো শিশু ধর্ষিতা হলে শুধু একবার হয় না,  এই দেশের আইন,সমাজ শিশু এবং তার পরিবারকে বারবার ধর্ষন করে।নিজেদের শিক্খিত হওয়ার বড়াই করি আমরা নিজেদের আধুনিকমনস্ক মনে করি।তবে কি এটাই আধুনিকতার পরিচয়? আবার সমাজে একদল যোগী মহারাজ যাদের মানুষ ভগবানের আসনে বসিয়ে রাখে আর নিজেদের দূর্বলতা প্রকাশ করে ফেলে। তারাও ভগবান সেজে ভক্তদের মেয়েদের দিনের পর দিন ধর্ষন করে। ইতিমধ্যে এমন দুজন বাবার পরিচয় সবার সাথে হয়েছে। না জানি আর কত অজানা বাবা সমাজের আনাচে কানাচে ঘোরাঘুরি করছে তাদের পসরা সাজিয়ে।

ইতিমধ্যে ধর্ষন কান্ডে যে আইন চালু তা নিঃসন্দেহে ভাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সশ্রম কারাদন্ড বা ফাঁসি যাই হোক না কেন সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই এই ভাবটি প্রত্যেক মানুষের মনে থাকলে সমাজ কলুষিত মুক্ত হয়। মেয়েদের অসম্মান যদি পুরুষের লজ্জা হয় তাহলে কোনো অপরাধই হয় না। নারী পুরুষ দোঁহে মিলে এক কলুষিত মুক্ত সমাজ কি গড়তে পারি না??