দেওঘর ও মধুপুর ভ্রমণ

আয়ুষ রায়

বাঙালির ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। তবে পায়ের তলায় সর্ষে তো আছেই সারা বছর, সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়া। ঝাড়খণ্ডের দেওঘর, মধুপুর অঞ্চল বড়ই স্বাস্থ্যকর চিরদিনই।

দেওঘর

দেবগৃহ বা দেবতার আবাস অর্থে দেওঘর নামটি পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান। এখানকার জল-হাওয়া খুবই স্বাস্থ্যকর বলে বহু নামী লেখকদের আদি বাসস্থান এই স্থানে দেখা যায়।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এবং ৫১ সতী-পীঠের এক পীঠ বলে এটি শাক্তপীঠ রূপে বিখ্যাত। এখানে সতীর হৃদয় পড়েছিল বলে লিখিত আছে। দেওঘর বৈদ্যনাথধাম নামে প্রসিদ্ধ। এই মন্দির নিয়ে এক কাহিনি আছে। রাবণ নাকি কৈলাস থেকে শিবকে লঙ্কায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শিবের তা ইচ্ছে নয়। শিব পথিমধ্যে বৈদ্যনাথধামে বসে পড়েন। তাই এই শিবের নাম রাবণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গম।

IMG-20181204-WA0025

এখানে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে, যেমন – বৈদ্যনাথ মন্দির,
মহাদেব ফলস, রিলাজোড়ি শিবমন্দির, ব্যাঙ পাহাড় ও হাতি পাহাড়। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, ২৫ কিমি দূরে বুরহাই-এ মা কালীর মন্দির। দেবী এখানে ‘মা বুরহেশ্বরী’, ত্রিকূট পাহাড়, নন্দন পাহাড়, তপোবন, দেবসঙ্গ নব দূর্গা মন্দির, চারুশিলা মন্দির, অষ্টধাতুর জগদ্ধাত্রী মা কুণ্ডেশ্বরী মন্দির, অনুকূল আশ্রম সৎসঙ্গ ইত্যাদি।

কী ভাবে যাবেন: দেওঘর যেতে গেলে হাওড়া থেকে যাত্রা শুরু করে নামতে হবে যশিডি স্টেশনে। ওখান থেকে অটো, ট্রেকার, বাসে ৬ কিমি দূরত্ব দেওঘরের।

কোথায় থাকবেন: বৈদ্যনাথ মন্দিরের কাছাকাছি বহু হোটেল ও লজ আছে।

মধুপুর

এখানে ইউক্যালিপ্টাসের সারি, চারিদিকে ছোট ছোট পাহাড় আর সবুজের সমারোহ, ছোটো জঙ্গল। এখানকার জল-হাওয়া দারুণ স্বাস্থ্যকর। আগে প্রায়শই বাঙালির দল স্বাস্থ্যোদ্ধারের জন্য বাড়ি করতেন এখানে।

দেখার স্থান – পথরোল কালী মাতার মন্দির, অন্নপূর্ণা মাতার মন্দির, সোনার বাংলা উদ্যান, কারমেল কনভেন্ট স্কুল ও চার্চ, গ্লাস ফ্যাক্টরি, বাংলার বহু লেখকের বাড়ি, নানান জমিদারের বাগান বাড়ি, ঘোড়ায় টানা টাঙ্গা, সাঁওতালদের ছোটো ছোটো গ্রাম, লাল মাটির রাস্তা যেন এক পুরোনো দিনের ছবি।

থাকার স্থান – কিছু হোটেল ও অনেক লজ আছে।

হাওড়া থেকে তুফান এক্সপ্রেস ও আরো অনেক মেল এক্সপ্রেস সোজা মধুপুর যায়।