তোলাবাজির শিকার একটি পরিবার

ইন্দ্রনীল সিনহাঃ-
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের পূর্ব সাংসদ শাহাবুদ্দিন কে গিরিশ-সতীশ হত্যাকান্ডে আজীবন কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে।গত বছর ৩০ আগস্ট পটনা হাই কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছিল যার ওপর সুপ্রিম কোর্ট মোহর লাগালো ২৯ অক্টোবর ২০১৮ তে। যে হত্যাকাণ্ডে পুর দেশ কেঁপে উঠেছিল তার সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন রইল। ১৬ আগস্ট ২০০৪ সালে সকাল ১০টা নাগাদ কিছু লোক চন্দ্র বাবুর দোকানে আসে এবং তার দুই ছেলে রাজীব রোশন আর সতীশ রাজের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে।রাজীব তাতে আপত্তি করায় আততায়ীরা রাজীব কে মারতে থাকে,সেই দেখে সতীশ তার ভাই কে বাঁচানোর জন্য ওদের গায়ে দোকানে রাখা এসিড ছিটিয়ে দেয়। রাজীব কোনো ভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় কিন্তু সতীশ কে শাহাবুদ্দিনের লোকেরা ধরে ফেলে।পরে রাজীব ও তাদের আর এক ভাই গিরিশ কেও ওরা ধরে নিয়ে যায় নিজেদের ডেরায়। তারপর শাহাবুদ্দিন জেল থেকে বেরিয়ে এসে সতীশ আর গিরিশ কে এসিড ঢেলে পুরিয়ে মারে।রাজীব,যে এই খুনের সাক্ষী ছিল তাকে শাহাবুদ্দিন ছেড়ে দেয় যাতে চন্দ্রবাবু ফিরে এলে তাকে দিয়ে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়ে পুর পরিবার কে এক সাথে মেরে ফেলতে পারে।
কিন্তু রাজীব এই সব জানতে পেয়ে ওই এলাকা ছেড়ে রাতে পালিয়ে উত্তর প্রদেশে চলে যায় সেখানে কিছু দিন পাদ্রাউনা ও কাশিনগরে লুকিয়ে থাকে।
পরে ফিরে আসে নিজের বাড়িতে এবং বিয়েও করে রাজীব।কিন্তু শাহাবুদ্দিনের নজর রাজীবের ওপর ছিল কারণ ওই একমাত্র সাক্ষী ছিল এই খুনের আর সেই জন্যই রাজীব কেও প্রাণ হারাতে হয়ে ১৬ জুন ২০১৪ সালে।এরপর চন্দ্রবাবুর ঘরে শোকের ছায়া নেমে আসে,তিন ছেলেকে হারিয়ে চন্দ্র বাবু চান যে শাহাবুদ্দিন যেন জেল থেকে কোনো দিন ছাড়া না পায়। সেই জন্য গত সোমবার যখন সুপ্রিম কোর্ট শাহাবুদ্দিন কে আজীবন কারাবাবাসের হুকুম দেয়,সেই বিচারে তিনি শান্তি পেয়েছেন।
শাহাবুদ্দিন এখন দিল্লি র তিহার জেলে বন্দি। কিন্তু সিয়ানের এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের একটাই প্রশ্নের মুখমুখি এনে দাঁড় করাচ্ছে-আর কতদিন তোলাবাজির শিকার হবে সাধারণ মানুষ?