জীবন দিয়েও দুর্নীতি রোখা গেল না

নন্দিনী দেঃ-সালটা ২০০৪। বোনের জন্য কাশীতে পাত্র দেখে মাঝ রাতে গয়া স্টেশনে নেমে ছিলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে আসার জন্য যে জিপটি থাকার কথা ছিল স্টেশনে বার বার ফোন করেও গাড়ির চালকের সন্ধান পাননি। তারপর শেষপর্যন্ত একটি রিকশা করে আসার পথেই খুন হতে হয় তাকে। নাম সত্যেন্দ্র দুবে। অপরাধ? অপরাধ হল তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর ২০০৩ সালের ‘সোনালী চতুর্ভুজ’ যোজনায় দুর্নীতি বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা লুট হচ্ছে দেখে প্রথমে উপরমহলের কর্তাদের জানান তিনি কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় সরাসরি চিঠি লেখেন অটল বিহারি বাজপেয়ীকে।
এই ঘটনা ঘিরে সমগ্র দেশে তুমুল ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠি ফাঁস হয়ে গেল..
আর এখন ২০১৮। বেঁচে থাকলে এই নভেম্বরে সত্যেন্দ্রর বয়স হত ৪৫। এই প্রতিবাদীর বাবা চিনিকলের ‘মুন্সী’ ভাগ্যেশ্বরী দুবে। বাড়ি পাটনা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সিওয়ান জেলার সাহপুর গ্রামে। বাড়িতে সাত ভাই বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই বিপ্লবী বিটেক করেন কানপুরের আইআইটি থেকে। এমটেক করেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছেলের সাথে কাটানো দিনগুলো আজ অতীত বাবা ভাগ্যশ্বরীর কাছে। তাই তো আজও ছেলের নামে চোখে জল আসে।
সত্যেন্দ্র দেখেছিল মাফিয়ারা কীভাবে কোটি কোটি টাকা লুট করছে। এমনকি তার কাছে সুযোগও এসেছিল সেই লুটের একাংশ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার। কিন্তু তার বিবেক তাকে সেদিন সায় দেয়নি। একজন ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় তাকে ছয় কিলোমিটার রাস্তা খুড়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। আবার জয় হয় বিচক্ষনতার।
সত্যেন্দ্র দুবের মত এসব অজানা বিপ্লবী হয়ত কোনো দিনও বইয়ের পাতায় আসবে না কিন্তু থেকে যাবে দুর্নীতি যুক্ত নির্মীয়মান সড়কের ধারে। মৃত মেধাবী ছেলের বাবা ভাগ্যেশ্বরীর কথায় ‘ছেলের আত্মবলিদানের এত দিন পরেও সড়ক নির্মানের দুর্নীতি তো চলছেই। বদলায়নি কিছুই। ‘