চলুন ঘুরে আসি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি গ্রাম-তাবাকোশি

 

সৌমিত্র চক্রবর্তী :- তাবাকোশি,রংবংখোলা নদীর ঢালে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন মেলে ধরেছে এই গ্রাম।গোপালধারা চা-বাগিচার একেবারে ভিতরে। মিরিক শহর থেকে দূরত্ব মাত্র ৫ কিমি। উচ্চতা প্রায় ৩,০০০ ফুট বা তার একটু বেশি। তাই শীত ততোটাও নয়,আবার গরমে মনোরম। পক্ষী প্রেমীদের
সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এই তাবাকোশি গ্রাম।

*কী কী দেখবেন:-

প্রকৃতি যে কত রং ছড়িয়ে আছে রংবংখোলার ধারে, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না।সবুজ উপত্যকায় বিস্তৃত সারি সারি সবুজ চা বাগান। থার্বো থেকে  সামান্য রয়েছে সাংমা চা বাগান। দেখতে পাবেন পাশের ঢালু পাহাড়ে পিঠে টুকরি নিয়ে চা পাতা তুলতে ব্যাস্ত মহিলারা। রয়েছে নানারকম ফুল ও অর্কিড। মাঝে মধ্যেই আনাগোনা পেয়ে যাবেন বিভিন্ন মিগ্রেটেরি পাখির। আলোর ছায়ার মতো আঁকাবাঁকা পথ ধরে নেমে আসুন নদীর দিকে, দেখতে পাবেন নদীর বুক জুড়ে রয়েছে বড়ো বড়ো বোল্ডার। আরেকটু নজর বাড়িয়ে তাকালেই দেখতে পাবেন ওপারে কয়েকশো ফিট তফাতে পাহাড়, যেন তারা একে অপরকে কানে কানে কিছু বলছে। ঢালে ঢালে রয়েছে কোথাও জঙ্গল আবার কোথাও চা বাগান। দু একটি বাঁক ঘুরে উঠে গেলে বনের ধরে রয়েছে প্যাগোডা আকৃতির শিবমন্দির। পথের ধারে ধরে উন্মুক্ত হয় প্রকৃতির নতুন ক্যানভাস। সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন মিরিক লেক। দুরত্ব খুব বেশি নয়,প্রায় ৮ কিলোমিটার।

IMG-20181031-WA0008

*কীভাবে যাবেন:-

হাওড়া বা কলকাতা থেকে ট্রেনে করে নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি স্টেশন। শিলিগুড়ি বা এনজিপি থেকে তাবাকোশির দূরত্ব ৬০ কিমি। শিলিগুড়ি/এনজিপি থেকে গাড়ি বা জিপ ভাড়া করে সোজা চলে যাওয়ায় ভালো। আবার বাসে মিরিক গিয়ে সেখানে থেকে গাড়ি নিয়ে তাবাকোশি চলে যাওয়া যায়।

*কোথায় থাকবেন:-

তাবাকোশি গ্রামে একমাত্র থাকার জায়গা সোনাখাড়ি হোমস্টে (ফোন=৯৭৩৩৪-৫৪৭৭৯)।এখানে মোট ছয়টি কটেজ আছে। ২টি স্টোন কটেজ,১টি ব্যাম্বো কটেজ,১টি ট্রি-হাউস ও ২টি উডেন কটেজ। মাথাপিছু থাকা খাওয়া নিয়ে প্রায় দৈনিক খরচ ১৫০০ টাকার মধ্যেই।