গুরু গ্রহে জলের অস্তিত্ব, দাবি নাসার

 

সৌমিত্র চক্রবর্তী, কলকাতা: সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি,আর তাতে নাকি পাওয়া গেছে জল তাও আবার তরল অবস্থাতে! এমনটাই দাবি করছেন আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার একদল গবেষক। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার এর জ্যোতিপদার্থবিদ ‘গর্ডন এল বোজ.রাকেরের’ গবেষণা পত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘অস্ট্রনমিক্যাল জার্নাল’- এ।
বোজ.রাকের জানিয়েছেন, বৃহস্পতির বায়ুমন্ডলের যে অংশটি সবসময় উত্তাল হয়ে থাকে ,খুব দূর থেকে যে অংশটির লাল রং চোখে পড়ে,যা আমাদের কাছে ‘গ্রেট রেড স্পট ‘ নামে পরিচিত,সেই গ্রেট রেড স্পট-এ ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি ঘূর্ণিঝড় চলছে। সেই ঝড়ের উপরে থাকা মেঘে জলের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ওই রেড স্পট কি?কী আছে তাতে? তা নিয়ে কৌতুহল ছিল সেই গ্যালিলিও গ্যালিলির আমল থেকেই। রেড স্পট নিয়ে অনেক দিন ধরে গবেষণা চলে আসছিল, আর তার হাত ধরেই খোঁজ পাওয়া গেল জলের। শুধু জল নয়, খোঁজ পাওয়া গেছে অক্সিজেনর।
জোত্যিপদার্থবিদ বোজ.রাকের দাবি, তারা যে রাসায়নিক যৌগ ও মৌলের সন্ধান পেয়েছেন বৃহস্পতির গ্রেট রেড স্পটে,তা জানান দিচ্ছে যে জলের সাথে সেখানে রয়েছে কার্বনের যৌগ কার্বন-মনোক্সইড ও। সেই যৌগ নাকি অক্সিজেনঘটিত, অর্থাৎ অক্সিজেনে পুরো টইটুম্বুর। তাদের পরীক্ষায় অনুমান করা হচ্ছে যে, গুরু গ্রহে যা অক্সিজেন রয়েছে তা নাকি সূর্যের থেকে ২-৯গূণ বেশি।
আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল,জলে পরিপূর্ণ বৃহস্পতির চাঁদ নামে পরিচিত ‘ইউরোপা’ ও ‘গ্যানিমিদ’। তবে বৃহস্পতির মধ্যে জল ও অক্সিজেন লুকিয়ে ছিল তা অবশ্যই জানা যায়নি তখনও।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরটরির গবেষক’স্টিভেন এম লেভিন’ জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিতে জলের আধিক্য জানাটা দরকার। পরবর্তীতে গ্রহটির গঠন সম্পর্কে পুরোপুরি ভাবে আমাদের সাহায্য করবে।’

বৃস্পতিকে আরও সহজে চেনার জন্য হালে পাঠানো হয়েছে নাসার মহাকাশযান “জুনো”। ৫৩দিন অন্তর সেই মহাকাশযানটি গুরু গ্রহের উত্তর থেকে দক্ষিনে প্রদক্ষিণ করছে।এর ফলে বৃহস্পতির আরও নতুন কোনো তথ্যে হাতে লাগবে এবং জলের অস্তিত্বর দাবিতে একটি দৃঢ় প্রমাণ থাকবে, মত বিশেষজ্ঞদের।