কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির নাটমন্দির

 

আয়ুষ রায় :

নদিয়া রাজবংশের আদি পুরুষ ভবানন্দ মজুমদার মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের দেওয়া ফরমানে রাজত্ব পেয়েছিলেন, ইতিহাস বলে। কথিত আছে, তিনি মা অন্নপূর্ণার পূজো করতেন এবং পরবর্তী কালে এই পরিবারে দূর্গোৎসবের প্রচলন হয়। ভবানন্দের উত্তরপুরুষ রাঘব রায় মাটিয়ারি থেকে রেউই গ্রামে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। পরে মহারাজ রুদ্র রায়ের আমলে এই জায়গার নতুন নামকরণ হয় কৃষ্ণনগর। তিনি ঢাকা থেকে আলাল বক্স নামে এক স্থপতিকে আনিয়ে তৈরি করান চকবাড়ি, কাছারিবাড়ি, হাতিশালা, আস্তাবল, নহবৎখানা এবং পঙ্খ অলঙ্কৃত দূর্গাদালান। রুদ্র রায়ের উত্তরপুরুষ মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় মহা সমারোহে এই পারিবারিক পূজো করেন।

রাজবাড়ির দূর্গাদালানে রাজরাজেশ্বরী বিরাজমানা। উল্টোরথের পরের দিন শুরু হয় প্রতিমা নির্মাণের কাজ। দেবী দূর্গার সামনের দু’টি হাত বড়, পিছনের আটটি হাত আকারে একটু ছোট। দেবীর গায়ে থাকে বর্ম, তিনি যুদ্ধের বেশে সজ্জিতা। পিছনে সাবেক চালার এক দিকে আঁকা থাকে দশাবতার, অন্য দিকে দশমহাবিদ্যা। মাঝে থাকেন
পঞ্চানন শিব। দেবীর বাহন পৌরাণিক সিংহ। প্রতিমার সাজ প্রচলিত ডাকের সাজের চেয়ে আলাদা। আগে সোনার গহনা পরানো হত। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের উত্তরপুরুষ সৌমীশচন্দ্র রায় ও অমৃতা রায় বর্তমান। আজও পূজোর জন্য গঙ্গা জল আনা হয় নবদ্বীপ থেকে। হোম শুরু হয় শুক্লা প্রতিপদ থেকে, দশমী পর্যন্ত। পূজোর ভোগে বিভিন্ন পদ থাকে। রাজবাড়ির সন্ধিপূজোতে প্রথা মতোই থাকে ১০৮টি পদ্মফুল ও ১০৮টি প্রজ্বলিত প্রদীপ। দশমীতে নানা অনুষ্ঠান হয় এবং অন্য আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে পুরনো প্রথা অনুসারে গৃহকর্তা বোধনের বেলতলায় কাঁচা মাটির তৈরি শত্রুর প্রতীকী মূর্তি তীর-ধনুক দিয়ে বধ করেন, অতীতে রাজার কর্ম নিয়ম অনুসারে এই প্রথার তাৎপর্য।