কলমে – ভাস্কর আচাজ্জী

কলমে – ভাস্কর আচাজ্জী

যদা যদা হি ধর্মস্যগ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুথানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজাম্যহম।।
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামী যুগে যুগে।।

আর নয়, অনেক হয়েছে। যারা মানুষ হয়ে মানুষকে খুন করে, যারা যে দেশে বসবাস করে সেই দেশমাতার বস্ত্র হরণ করে, ধর্মের নামে অন্য ধর্মের প্রতি ক্রমাগত আক্রমণ হানে, তাদের উদ্দেশ্যে এক্ষুণি আমাদের অস্ত্র ধরতে হবে….. এটা কোনো অন্যায় নয়।আমরা প্রভু যীশুর ভাষায় বলতে চাই না, “প্রভু এরা কি করছে এরা জানেনা, এদের তুমি ক্ষমা কর”। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, নিজের ধর্মকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি নিজের স্বজনকেও হত্যা করতে হয় তাই করতে হবে, এটাই ধর্ম, এটাই ন্যায়, এটাই কর্তব্য।
কলি যুগের ধর্মযোদ্ধা পতিত পাবন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুও এক সময় অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমে মুসলিম অত্যাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মহাপ্রভু যখন হরিনাম প্রচারে সমগ্র উপমহাদেশে ভক্তবন্যায় প্লাবিত করে চলেছেন তখন মুসলিম ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদ কাজী নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে হরিনাম প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ জারি করলেন, গুণ্ডা পাঠিয়ে ভক্তদের মারধর শুরু করে দিলেন, মৃদঙ্গ, ঢোল ভেঙে দিলেন, হরিবাসরগুলোতে অগ্নি সংযোগ করতে শুরু করলেন।এমন কি যেই হরিনাম উচ্চারণ করলেন তাকেই রাস্তায় দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করতে লাগলেন। এই সব দেখে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। ঘোষণা করলেন সশরীরী ধর্মযুদ্ধ। ভক্তদের আদেশ দিলেন ঐ চাঁদ কাজীর গুন্ডাবাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে।নিত্যানন্দ প্রভু এবং শ্রীবাস ঠাকুরের নেত্রীত্বে ঝাঁপিয়ে পড়ল সারা নবদ্বীপ বাসী।আবাল,বৃদ্ধ, বনিতা, কুমার, কুমারী, নববধু এক যোগে রাস্তায় নেমে এলেন, অস্ত্র হিসাবে কারও হাতে মৃদঙ্গ, কারও হাতে করতাল আবার কারও লাঠি, কারও হাতে কুড়ুল আবার কারও হাতে মশাল।
নবদ্বীপ বাসী এক অপূর্ব সমন্বয়ে ক্ষণিকেই গড়ে তুললেন এক অজেয় ধর্মশক্তি। সকলের ভিতরের রক্ত তখন টগবগিয়ে ফুটছে আর রক্ত-বাষ্প তখন “হরি” নামের রূপে মুখগহ্বর থেকে নির্গত হতে থাকে।

শোন, শোন, নিত্যানন্দ, শোন হরিদাস।
সর্বত্র আমার আঙ্গা করহ প্রকাশ।।
প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে কর এই ভিক্ষা।
বল কৃষ্ণ, ভজ কৃষ্ণ, কর কৃষ্ণ শিক্ষা।।

যাই হোক, চাঁদ কাজী এই পরম শক্তির কাছে অচিরেই পরাভব মানে এবং শ্রীপাদে লুটিয়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করে প্রাণ ভিক্ষা চায়, ভক্তাধার প্রভু তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।
এর থেকে আমরা কোনো শিক্ষা গ্রহন ও করি নি আর বহন ও করি নি। আসুন আমাদের মুখগহ্বর থেকে বর্তমান সামাজিক পটকে মাথায় রেখে সাম্যের লহিত-বাষ্প নির্গত করি আর কেদারায় আসীন আয়েশীদের ছেঁড়া বস্ত্রের মত পরিত্যাগ করে মানুষে মানুষে হানাহানির বিরুদ্ধে সশরীরী ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করি এই পলে।

copyright@ভাস্কর আচাজ্জী