আজ আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস

 লিখেছেন- ডঃ  দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায় 

তথ্য জানার ধারণাটি সভ্যতার প্রথম থেকে থাকলেও তথ্যে প্রবেশাধিকার বা জানার অধিকার মিলেছে বহু আন্দোলন ও বিবর্তনের মাধ্যমে ৷এ বিষয়ে প্রথম যথাযথ পদক্ষেপ নেয় ইউরোপীয় দেশ সুইডেন ৷ ১৯৬৬ সালে সেখানে এ নিয়ে আইন প্রণীত হয় ৷ এর অনেক পরে ২০১২ সালে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বিশ্বের সব সংগঠন একযোগে FREEDOM OF INFORMATION NETWORK  গঠন এ বিষয়ে নিজেদের ধ্যানধারনা ও সাফল্য এবং স্ব স্ব দেশের আইনকানুন নিয়ে মতবিনিময় করে ৷ এরই ফলস্বরূপ আসে সাফল্য ৷ International Day for Universal Access to Information ( IDUAI) পালনের সিদ্ধান্ত নেয় ইউনেস্কো ৷আর  ২০১৫ সালে ইউনেস্কোর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম "তথ্য অধিকার দিবস " পালন করা হয় ৷ যা রাষ্ট্রসংঘের এজেন্ডা হওয়ায় সব দেশ তা পালনে সংকল্পবদ্ধ ৷বিশ্ব শান্তি , সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে এর গুরুত্ব অপরিসীম ৷ যার উদ্দেশ্য কাউকে পিছনে রেখে নয় None to be left behind  ৷ জাতি , ধর্ম ,বর্ণ , লিঙ্গ , আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে সবার জন্য সুশাসনের বাস্তবায়ণ ৷এতে রাজনৈতিক ,সামাজিক , অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে প্রতিবন্ধকতা ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাধা দূর হতে পারে ৷ গণতন্ত্রের প্রাথমিক লক্ষ্য জনগনের মধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ৷ জনসাধারণের কাছে সবকিছু স্বচ্ছ ও সুলভ হলেই তা সম্ভব ৷ আসলেই সংকটকালে তথ্য পেলে জনগনের মুক্তি মেলে ৷ তথ্য মানুষকে সচেতন করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহার্য্য করে ৷ একসময় সাংবাদিকতা করার সুবাদে জানি তথ্যের অবাধ প্রবাহই একমাত্র পারে সরকারি হোক বা বেসরকারি 

যেকোন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি দূর করতে ও সর্বত্র সুশাসন আনতে ৷ সাধারণ মানুষের মনে দেশ সম্পর্কে আস্থার বাতাবরন সম্মুন্নত রাখতে ৷জনগনের ক্ষমতায়ন ও সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে ৷
এই লক্ষ্যে ভারতে ২০০৫ সালে “তথ্য জানার অধিকার “বা RTI গৃহীত হয় ৷এরফলে যে কোন ভারতীয় রাষ্ট্রের কাছে তথ্য জানতে চেয়ে অনুরোধ করতে পারে এবং তৎপরতার সাথে এক মাসের মধ্যে এর উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক ৷ আবার বিষয়টি যদি আবেদনকারীর জীবন ও স্বাধীনতা সংক্রান্ত হয় তাহলে মাত্র দু’দিনের মধ্যে তা বাধ্যতা মূলকভাবে জানাতে হবে ৷এজন্য সব সরকারি সংস্থার প্রতিটি তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ৷যাতে যেকোন নাগরিক অল্প সময়ে তথ্যানুসন্ধানে সক্ষম হয় ৷বেসরকারি গণ পরিষেবা সংস্থাও সেবা সংস্থা( NGO)গুলিকেও অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে ৷কেউ কোন কিছু জানতে চাইলে পোস্টাল অর্ডার , ডিমান্ড ড্রাফট বা ব্যাঙ্কের চেকের দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাদ আধিকারিকের নামে দরখাস্ত করবেন ৷ গরিব তথা সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণির হলে ফী লাগে না ৷মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে যাঁরা আইনটির মাধ্যমে তথ্য জানতে চাইছেন সরকার যেন তাঁদের সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা নেয় ৷
এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে ছোট থেকে বড় সবরকম দুর্নীতি হ্রাস পাবে ৷তবে , তথ্য জানার নথিপত্র চাওয়ার আগে ভালোভাবে জেনে নিশ্চিত হয়ে তবে জানতে চাওয়া উচিত ৷আগে অন্য সব পদ্ধতিতে বিষয়টি মেলে কিনা দেখে তবে আরটিআই ব্যবহার করুন ৷ রাগের মাথায় , প্রতিশোধের জন্য ও খারাপ মেজাজে এর ব্যবহার হওয়া অনুচিত ৷কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অহেতুক হেনস্তার শিকার না হয় ৷সঠিক জায়গায় সঠিক প্রশ্নটি করুন ৷ আপনি একজন নাগরিক , কোনো তদন্তকারী সংস্থা নন এটা মাথায় রাখবেন ৷উচ্চাকাঙ্খী হবেন না ৷আমার সাংবাদিক বন্ধুদের অনেককে দেখেছি তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে কলাম লিখছেন ৷তাতে অনেক গোপন ও অজানা তথ্য উঠে এসেছে ৷প্রতিটা দিবস পালনের ক্ষেত্রে বছর বছর আলাদা প্রতিপাদ্য বা থিম থাকে ৷ এবারের অর্থাৎ ২০২১ সালের “আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার “দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “তথ্য আমার অধিকার , জানা আছে কি সবার বা জানতে হবে সবার “৷যেমন গতবারে ছিল “তথ্য অধিকার সংকটে হাতিয়ার “৷তথ্য অধিকারের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছ ,সুন্দর ও জনদরদী হবে ৷